আশ শেফা মধুঘর

বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের করুন দুর্দশা, ইহুদীদের নজিরবিহীন সাফল্য ও মধু

Juesh

 

ভুমিকাঃ

বিশ্বে বর্তমানে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ১৫০-কোটির মত, যেখানে ইহুদীদের সংখ্যা মাত্র ১ কোটি ৪ লাখ। বিশ্বের জনসংখ্যা হিসেবে মুসলমান ইহুদীর অনুপাত হচ্ছে ১০৭:১। এ ছাড়াও প্রতি ২-জন মুসলমানের বিপরীতে ১-জন হিন্দু, প্রতি ২-জন মুসলমানের বিপরীতে ১-জন বৌদ্ধ এবং প্রতি ১০৭-জন মুসলমানের বিপরীতে ১-জন ইহুদীর বাস আজকের বিশ্বে। সে হিসেবে বিশ্বে মুসলমানগণ বেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ বটে…

অথচ মেধার দিক দিয়ে ইহুদীরই সবচেয়ে এগিয়ে, মেধার জোরেই আধুনিক বিশ্বের অবস্থানগত দিক দিয়ে মুসলমানদের থেকে জিউস তথা ইহুদীরা আছে ভাল অবস্থানে। আজকের আধুনিক বিশ্বের রাজনীতি, আবিস্কার, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রায় সর্বত্র ইহুদীদের জয়জয়কার। ইঞ্জিনিয়ারিং, সংগীত, জ্ঞান বিজ্ঞান সহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অন্যদের থেকে ইহুদীরা অনেক বেশি এগিয়ে। বিশেষ করে ব্যবসা ক্ষেত্রে। প্রসাধনী, খাদ্য, অস্ত্র, ফ্যাশন, ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রি ইত্যাদি সহ (হলিউড) পৃথিবীর প্রায় সত্তর ভাগের কাছাকাছি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এদের দখলে।

আলবার্ট আইনেস্টাইন, সিগমন্ড ফ্রোয়েড, কালমার্কস, পল শ্যামুয়েল সান এরা সবাই জাতিতে ইহুদী। বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ ব্যক্তিত্বের নামের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হচ্ছে ইহুদী ধর্ম অনুসারীগণ। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ‘বেন বারনানকি’ একজন ইহুদী। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ ‘রাহম ইমানুয়েল’ ধর্মীয়ভাবে ইহুদী। গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ‘সার্জে ব্রিন’ও হচ্ছেন ইহুদী। এ ছাড়া বিশ্বের প্রধান ইহুদী ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন- আন্তর্জাতিক মানিটরী এজেন্সীর প্রধান ‘ডোমিনিক স্টারুজ কাহন’, নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল বস্নুমবার্গ, ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বার্নাড কুচনার, ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক যুকারবার্গ, ওরাকল প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারী ইলিশান, বেঞ্জামিন রুবেনঃ রোগ প্রতিরোধের ভ্যাকসিন আবিস্কারক, জনাস সলকঃ পলিও ভ্যাকসিন আবিস্কারক, গেটার্ড এলিওনঃ লিউকোমিয়ার ঔষধ আবিস্কারক,বারুচ বস্নুমবার্গঃ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস আবিস্কারক, পাউল এরলিশঃ সিফিলিস রোগের আবিস্কারক, এলি মেটচেনিকফঃ নিউরো মাসকুলার এর আবিস্কারক, আন্দ্রে সেলিঃ এন্ডেক্রিনোলজির আবিস্কারক, এ্যারক ব্যাকঃ কগনেটিভ থেরাপীর আবিস্কারক, গ্রেগরী পিনকাসঃ জন্মনিয়ন্ত্রক পিল আবিস্কারক, জর্জ ওয়ালদঃ চক্ষু চিকিৎসার জিনিসপত্র আবিস্কারক, স্টেনলি কোহেনঃ এমব্রিওলজির আবিস্কারক, উইলিয়াম ক্লফকামঃ কিডনী রোগের ডায়ালাইসিস এর আবিস্কারক, স্টেনী মেজরঃ মাইক্রো প্রসেসর উদ্ভাবক, লিও সিল্যান্টঃ নিউক্লিয়ার চেইন রিএ্যাকটর উদ্ভাবক, পিটার সুটসঃ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল উদ্ভাবক, চার্লস এডলারঃ ট্রাফিক লাইট উদ্ভাবক, বেনো স্ট্রাউজঃ স্টেললেস স্টিল উদ্ভাবক, ইসাডর কিসিঃ সবাক চলচ্চিত্র উদ্ভাবক, এমিল বার্লিনারঃ টেলিফোন মাইক্রোফোন উদ্ভাবক, চার্লস গিনসবার্গঃ ভিডিও টেপ রেকর্ডার উদ্ভাবক। এ ছাড়াও কোকাকোলা, লেভিজ জিন্স (নীল সুতার প্যান্ট), স্টারবাক্স (কফি ও পানীয়), কোম্পানীর মালিক ও পরিচালক ইহুদী, পলো (বস্ত্র) র মালিক রাফ লরেন, ডেল কম্পিউটার এর মালিক মাইকেল ডেল, ডিকেএনওয়াই (ইলেকট্রনিক্স ও পারফিউম) এর মালিক ডনা কারান, বাসকিন এন্ড রবিন্স ডেয়ারী এর মালিক ইরভ রবিন্স, ডানকিন্স ডনাটস্ (কফি ও পেস্ট্রি) এর মালিক বিল রজেনবার্গ।

এই ইহুদীদের অধীনে রয়েছে ৪ হাজারেরও বেশি টেক-কোম্পানি, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর নাম। বিশ্বের সবচেয়ে প্রধান ৫০০টি টেক-জায়ান্টের ৮০টিরই গবেষণাকেন্দ্র এবং নব্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্র রয়েছে তাদের রাজধানী ইজরেলে! আদতে টেক-স্টার্টআপের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির ঠিক পরেই রয়েছে ইজরেলের রাজধানী তেল আবিবের নাম, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি কেন্দ্র। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত টেক-কোম্পানিগুলোর শেয়ারের জন্য তৈরি ন্যাসড্যাক স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় ইসরায়েল রয়েছে ৩ নাম্বারে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র আর চীনই রয়েছে ইজরেলের উপরে। জার্মানি, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সের সম্মিলিত প্রযুক্তি কোম্পানির তালিকাও রয়েছে ইজরেলের পিছনে! ঠিক এই মুহূর্তে পরবর্তী মডেলের আইফোনের হার্ডওয়্যারের বেশিরভাগই তৈরি করা হচ্ছে ইজরেলে। চীন হয়তো উৎপাদনের দিক থেকে এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু নতুন প্রযুক্তি গবেষণা, আবিষ্কার আর তা বাস্তবে তৈরি করার দিক থেকে সবার উপরে রয়েছে ইজরেল। গুগলের নতুন প্রযুক্তিগুলোর অনেকগুলোই তৈরি করেছে এই ইহুদীরা। ইনটেল, বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রসেসর তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান, মাইক্রোচিপ নিয়ে গবেষণার জন্যও ইহুদী গবেষকদের মুখাপেক্ষী। ইজরেলের ইনটেল কারখানায় কাজ করে ১১ হাজারেরও বেশি কর্মী, যেটি দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কারখানা। বিল গেটসের মাইক্রোসফটকেও ধরা হয় একটি আধা-ইসরেলি কোম্পানি হিসেবে, অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারে চালিত উইন্ডোজ সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করতেও অবদান রয়েছে কোনো ইহুদী প্রযুক্তিবিদের।

ইজরেলের আয়ের অন্যতম বড় একটি অংশই আসে এই প্রযুক্তি খাত থেকে। আইবিএম, পেপাল, সিসকো, আমাজন, ফেসবুকসহ বড় বড় কোম্পানিগুলোর ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সেক্টরে কাজ করার ফলে এবং প্রযুক্তি আমদানির ফলে যে অর্থ আয় হয়, তা ইজরেলের জিডিপির ১২.৫%! বিশ্বের রাজনীতি-অর্থনীতি নিয়ন্ত্রক নামকরা অন্য ইহুদীগণ হচ্ছেন হেনরী কিসিঞ্জার, সিএনএন, এবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট, টাইম ম্যাগাজিন, নিউইয়র্ক টাইমস। এ ছাড়া মানবসেবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় দানকারী (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মিউজিয়াম ইত্যাদি খাতে) ইহুদী হচ্ছেন ‘জর্জ সরোজ’ ও ‘ওয়ালটার আনেনবার্গ’।
শিক্ষার হার ইহুদী-খৃস্টান সমাজে ৯৯%, মুসলমানদের মধ্যে ৪০%, ১৫টি খৃস্টান দেশে শিক্ষার হার ১০০%, অনেক মুসলমানে দেশে শিক্ষার হার খুবই হতাশাজনক মানে ৫-১০%।

বিপরীতে মুসলিম জনসংখ্যার মধ্যে গড়ে ১ মিলিয়নে বিজ্ঞানী সংখ্যা ২৩০ জন, কেবল আমেরিকায় ১ মিলিয়নে বিজ্ঞানী সংখ্যা ৫০০০ জন। গবেষণা ও উন্নয়নে মুসলিম দেশগুলো তাদের জিডিপির ০.২% ব্যয় করলেও, খৃস্টান দেশগুলো গড়ে ৫% জিডিপি ব্যয় করে। আবিস্কার ও অন্যবিধ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বের ১০৫ বছরের ইতিহাসে ১৮০ জন ইহুদী নোবেল পুরস্কার পেলেও, ৫৭টি দেশের ১৫০ কোটি মুসলমানের মধ্যে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সংখ্যা সাকুল্যে ৮, যার মধ্যে শান্তিতে ৫ ও আবিস্কারের জন্যে মাত্র ৩ জন। এ তথ্যচিত্রই আমাদের বলে দেয়, আধুনিক বিশ্বে মুসলমান হিসেবে আমাদের অবস্থান কোথায়!

বিশ্বের প্রত্যেকটি ইহুদীর মধ্যে আছে জাতিগত ঐক্য। প্রত্যেকটি ইহুদী জানে অপর ইহুদীর খোঁজখবর তথা অবস্থান, সে যে দেশেই বসবাস করুক না কেন। যেখানে মুসলমানগণ নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ করে সময় কাটায় অহরহ। এক মুসলিম রাষ্ট চায় অন্য মুসলিম রাষ্ট্রের ধ্বংস কিংবা গোপনে উস্কানী দেয় নানাভাবে আক্রমন করতে। (সর্বশেষ উদাহরণ সিরিয়া, মিসর। উইক্লিক্সের ভাষ্যমতে, সৌদি আরব আমেরিকাকে অনুরোধ জানায় ইরান আক্রমনের জন্যে, কত বড় লজ্জাজনক কথা!)।

আজকের মুসলমানদের বর্তমান দূরবস্থার কারণ অনুসন্ধানের নিমিত্তে প্রথমে আমাদেরও উচিত ইহুদীদের মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়া, তাদের নিন্দা না করে, তাদের সঙ্গে বৈরিতার পরিবর্তে তারা কিভাবে তাদের জাতিকে সংগঠিত করছে, বিশ্বের একটি মাত্র ইহুদী রাষ্ট্র হওয়ার পরও তাদের মধ্যে জাতিগত ঐক্য কিভাবে সংহত হচ্ছে, তাদের জাতির মধ্যে বিশ্বনিয়ন্ত্রক বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ কিভাবে তৈরী হচ্ছে তার খোঁজ ও তাদের বিষয়ে গবেষণা করা। জ্ঞানবিজ্ঞানে তাদের নিত্য নৈমিত্তিক উন্নতির ‘গোপন রহস্য’ এবং এর বিপরীতে মুসলমানদের প্রাত্যহিক হানাহানির ‘সঠিক কারণ’ নির্ধারণে গবেষণালব্ধ ফল পেলে হয়তো মুসলিম জাতি হয়ত এখনোও ঘুরে দাঁড়াতেও পারে। অন্যথায় চলমান সময়ে শুধু ইহুদীদের বদনাম ও গালি দিয়ে মুসলমানরা কোন উন্নতি করতে পারেনি কিংবা পারবে এমন কোন সম্ভাবনা নেই। মধ্যযুগকে যদিও মুসলমানদের স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে নানা কারণে কিন্তু একুশ শতকের মুসলমানদের এই নড়বড়ে অবস্থানের পরিবর্তন চাইলে আমাদের তাদের দিকে ভালো করে তাকানো উচিত নিজেদের অস্তিত্বের কারণেই। আর এই তাকানোের কাজটি আমরা শুরু করতে পারি একেবারে গোড়া থেকে।

“ইহুদীরা কেন এতো বুদ্ধিমান হয়?”, একই মগজ মেধা তো মুসলমান সহ অন্যদেরও আছে, তবে কেন এবং কিভাবে তারা সংখ্যায় এত কম হয়েও বুদ্ধির দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে? উত্তর খুঁজতে হবে এই প্রশ্নের। আর এই উত্তরের সন্ধানে আমরা শরনাপন্ন হব একটুখানি রাজনৈতিক ইতিহাসের, তারপর বিজ্ঞানের, এবং সবশেষে নজর দিব আরেকটু গভীরে, তাদের কৃষ্টি কালচার, ও নানাবিধ আচার অভ্যেসের দিকে।

গত দশকের ইতিহাস থেকেই শুরু করা যাকঃ

নব্বইয়ের দশককে ধরা হয় ইজরেলের তথা ইহুদীদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ দশটি বছর, বিশেষ করে অর্থনীতির দিক থেকে। প্রতিবছর প্রায় ১০০% মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থব্যবস্থায় ধস নেমেছে, বাজেটের ঘাটতি আর ঋণের বোঝা তখন দেশের প্রতিটি কোণার মানুষের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। মোদ্দাকথা, ইহুদীদেরকে খেয়ে-পরে চলার জন্য পুরোটাই নির্ভর করতে হচ্ছে বিদেশি সাহায্যের উপর। দশকের শেষ দিকে এরা চেষ্টা করছে এই বাজে অবস্থা থেকে উঠে আসার জন্য, ঠিক তখনই ভেঙে যাওয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে হাজির হলো আরোও প্রায় ৮ লক্ষ ইহুদি। সংখ্যাটা বেশ কম মনে হলেও তৎকালীন সময়ে তাদের দেশ ইজরেলের নাজুক অবস্থাকে আরো শোচনীয় করে তুলতে এটুকুই যথেষ্ট ছিল। এখন তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ালো একটিই- কীভাবে এতগুলো বেকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা যাবে? হাতে তাদের ছিল একটাই উপায়, ইজরেলের পুরো অর্থনীতি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো। প্রথমদিকে ইজরেলের সরকার চেষ্টা করলো উদ্যোক্তাদেরকে নতুন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য, কিন্তু যে দেশে টাকাই নেই সেখানে কীভাবে নতুন উদ্যোক্তা এগিয়ে আসবে? আর কে-ই বা ইজরেলের মতো হাঙ্গামাপূর্ণ দেশে তাদের মূল্যবান অর্থ বিনিয়োগ করবে? আর তখনই সরকার বুঝতে পারলো যে একমাত্র আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের মাধ্যমেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব। আর সেখান থেকেই শুরু হলো ‘ইয়জমা প্রোগ্রাম’। হিব্রু ভাষায় ইয়জমার অর্থ হচ্ছে উদ্যোগ। এই পরিকল্পনার অধীনে ইজরেল সরকার ১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ১০টি ফান্ড তৈরি করলো। বহিরাগত কোম্পানির প্রতি ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পিছনে ইজরেল সরকার ৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোম্পানির ৪০% মালিকানা দখলে রাখবে। যদি এখান থেকে লাভ হয়, তাহলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান সামান্য সুদসহ সরকারের টাকা পরিশোধ করে সম্পূর্ণ কোম্পানির মালিক হয়ে যেতে পারবে, অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য পুরোটাই লাভ। অন্যদিকে আপাতদৃষ্টিতে ইজরেল সরকারের কোনো লাভ নেই মনে হলেও নতুন কোম্পানি আর কর্মসংস্থানের ফলে অর্জিত ট্যাক্স থেকেই সরকারের বিনিয়োগের খরচ উঠে যাবে। আর এই পরিকল্পনার বাস্তব ফলাফল এর চেয়ে ভালো হওয়াও সম্ভব ছিল না। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো ইজরেলে বিনিয়োগ করা শুরু করলো, যেকোনো আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্যই টাকার বরাদ্দ রয়েছে। প্রথম আট বছরের মধ্যেই ফান্ডের সংখ্যা দাঁড়ালো ২০ থেকে ৫১৩ তে! আর ফলাফল? ইজরেলকে এখন ধরা হয় উদ্যোক্তাদের রাজধানী হিসেবে, এবং পরিসংখ্যানুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানির প্রতিটি কর্মীর পিছনে প্রতি বছর ১৫০ মার্কিন ডলার করে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। তুলনা করা হলে, এটি স্পেনের একজন উদ্যোক্তার পেছনে বিনিয়োগের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি! আর শুধু টাকাই নয়, টাকার সাথে সাথে যোগ হচ্ছে অভিজ্ঞতার পাহাড়ও।


এদের উন্নতির আরেকটি কারন হল তাদের রাষ্ট্রের কার্যকর অভিবাসন নীতি, কোনো দেশের জনসংখ্যা অভিবাসীদের উপর নির্ভরশীল, প্রশ্নটির উত্তর নিঃসন্দেহে হবে ইজরেল। আদতে প্রতি ৩ জন ইজরেলির একজন বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে! এবং প্রতি ১০ জনের ৯ জনই অভিবাসী এবং অভিবাসীদের সন্তান-সন্ততি। আর এটিই প্রমাণ করে কীভাবে স্বাধীনতার সত্তর বছরের মধ্যে একটি দেশের জনসংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে গেল। ইজরেলের সংবিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক ইহুদির ইজরেলে বাস করার অধিকার রয়েছে- প্রত্যাবর্তনের আইন, ধারা ১। আর এই নীতিকে কোনো ছোটখাট জিনিস মনে করলে ভুল হবে। জরিপ অনুযায়ী, যে দেশে অভিবাসীর সংখ্যা যত বেশি, সে দেশ ঠিক ততটাই ধনী। কারণ, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্যোগ নেওয়ার প্রবণতা বেশি। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এই ইহুদিদের সম্মেলন নতুন নতুন আইডিয়া বের করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

ইহুদীদের এই বিরাট সাফল্যের আরেকটি মূল কারণ হচ্ছে তাদের রাষ্ট্র ইজরেলের শিক্ষাব্যবস্থা। ১৯৪৮ সালে ইজরেলের প্রতিষ্ঠা হওয়ার ৩০ বছর আগেই ইহুদিরা জেরুজালেমে প্রতিষ্ঠা করে ‘দ্য হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেম’।

বর্তমানে কলেজ ডিগ্রি অর্জনের দিক থেকে ইজরেল রয়েছে একেবারে প্রথমসারিতে। আর অন্য দেশ থেকে ইজরেলকে যা আলাদা করা হয়েছে তা হলো এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ইজরেলের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে একেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে আবার রয়েছে বিভিন্ন বৈদেশিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফলে একজন শিক্ষার্থী যে শুধুই শিক্ষা গ্রহণ করে তা-ই নয়, বরং একইসাথে পেশাদার গবেষক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। এর ফলে ছাত্রাবস্থাতেই বের হয়ে আসে একেকজন উদ্যোক্তা, যার মাথায় ঘুরতে থাকে অসাধারণ সব আইডিয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এসব গবেষণা আর উদ্ভাবনের মাধ্যমেই ইজরেল নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিধর দেশ হিসেবে।

আশির দশকের বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে এভাবেই ইজরেল তাদের জনসংখ্যা দুই গুণ বাড়িয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে চার গুণ, জিডিপির দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে স্পেন কিংবা ইতালির মতো উন্নত দেশকে। সর্বোপরি, প্রযুক্তি বিশ্বকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে তারা।

এবার আসা যাক ইহুদীরা কেন এতো বুদ্ধিমান হয়- এই প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটির দিকে। যদিও এ ব্যাখ্যাটি প্রচন্ডভাবে বিতর্কিত ও বিজ্ঞানমহলে সমালোচিত একটি ব্যাখ্যাঃ উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নৃতত্ববিদ গবেষক গ্রেগরী কোখ্রান ও হেনরি হার্পেন্ডিং২০০৫ সালে ” Natural History of Ashkenazi Intelligence” নামে একটি গবেষণাপত্র পেশ করেন যার মূল বক্তব্য এইরকম:

১. আশকেনাজি ( অর্থাৎ জন্মসুত্রে মধ্য-বা প্রাচ্য ইউরোপ থেকে আসা ) ইহুদিদের গড়পরতা গাণিতিক ও বাচনিক IQ অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় বেশি।


২. পেশাগত নিষেধাজ্ঞা জারি ইহুদিদের ফাইনান্স, ম্যানেজমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইত্যাদিতে মনোনিবেশ করতে বাধ্য করে ও তাঁর ফলে এই ধরনের পেশায় সাফল্যলাভের জন্য প্রয়োজনীয় জিনগুলি বংশপরম্পরায় আনুকুল্য লাভ করে টিকে গেছে। বস্তুত এই জিনগুলিই তাদের IQর জন্য দায়ী।

৩. আশকেনাজি ইহুদিরা কিছু বিশেষ ধরণের জেনেটিক রোগ ও ম্যুটেশন দ্বারা আক্রান্ত যার পারিপার্শ্বিক প্রভাবে শাপে বরের মত তাঁরা অন্যদের তুলনায় উচ্চতর IQ লাভ করেছে।

বিজ্ঞানমহল এই গবেষণাপত্রকে মোটেই ভালোভাবে গ্রহণ করেনি, শুধু বিজ্ঞানীরাই নয়, সমালোচনার ঝড় তুলেছেন ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীর দলও। কিন্তু যতই যাই হোক, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের অন্তর্গত The Journal of Biosocial Science গবেষণাপত্রটিকে গ্রহণ করে ও সেটিকে অনলাইনেও পোস্ট করে।

ইহুদীরা কেন এতো বুদ্ধিমান হয়- প্রশ্নের উত্তর সন্ধানে এখন আমরা প্রবেশ করব আরেকটু গভীরে, নজর দেব ইহুদীদের একেবারে খুঁটিনাটি বিষয়, যেমনঃ তাদের নিত্তনৈমিত্তিক জীবনপ্রনালী, আচার অনুষ্ঠান, খাদ্যাভ্যাস এবং মধুর ব্যবহারের দিকে।

Famous meal of  israel

প্রথমে শুরু করা যাক তাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে, সেই সুযোগে তাদের আচার অনুষ্ঠানের ব্যাপারেও জানা যাবে, সবশেষে তাদের মধুর যুগান্তকারী ব্যবহারের আলোচনা তো আছেইঃ

ইহুদীদের জাতীয় খাবারগুলো আশকানাজিক এবং সেফার্ডিকে বিভক্ত। সেফার্ডিক মধ্য প্রাচ্যের ইহুদীদের বুঝায়, যাদের মধ্যে মশলাদার খাবার, সুগন্ধিযুক্ত মশলা এবং ঔষধি রয়েছে। আশকানাজি পুর্ব এবং পশ্চিমের ইহুদি মানুষের সাথে সম্পর্কিত। এদের মশলার ব্যাবহার আরও পরিমিত এবং ইউরোপীয় খাবার দ্বারা প্রভাবিত।

ইহুদিরা খাবার প্রস্তুত এবং সেবার ক্ষেত্রে কাশরুতের ধর্মীয় আইন অনুসরন করে। উদাহরণস্বরূপ: শুকরের মাংস ও শেলফিস’ নিষিদ্ধ। দুগ্ধজাত খাবারগুলো অবশ্যই মাংসের থালা থেকে আলাদা করে রান্না করে খাওয়া হয়। কাশরুতের আইন অনুসারে প্রস্তুত খাবারকে “কোশার” অর্থ্যাৎ অনুমোদিত বলে মনে করা হয়। ইসরাইলে কোশার রেস্তোরা এবং ক্যাফে রয়েছে যা দুগ্ধ এবং মাংসে বিভক্ত।

ইহুদিদের জন্য যা খাওয়া অনুমোদিত, তাকে বলা হয় “কোশার” ও যা খাওয়া নিষিদ্ধ, তাকে বলা হয় ত্রেফা৷ কোশার হলো সেইসব প্রাণী, যাদের পায়ের খুর পুরোপুরি চেরা এবং যারা জাবর কাটে, যেমন গরু, ছাগল কিংবা ভেড়া৷ ঘোড়া কিংবা শূকর এই কারণে কোশার নয়৷ কোশার মাছের আবার আঁশ ও পাখনা থাকা চাই৷ তারা সমস্ত রক্ত বাধ্যতামূলক অপসারণের সাথে নির্দিষ্ট বিধি অনুসারে জবাই করা পশুর গোশত খায়। হাঁস-মুরগির অনুমতি রয়েছে, তবে এটি অবশ্যই একটি বিশেষ কারুকাজে চালিত ছোজেটকে দ্বারা (এক প্রকার ধারালো ছুরি) হত্যা করতে হবে। বিশ্বাস করা হয় যে এইভাবে পাখিটি বিনা কষ্টে মারা যায়। টার্কি, কোয়েল, গিজ, হাঁস এবং মুরগির মাংস কোশার হিসাবে বিবেচিত হয়। তাওরাতে একটি নন-কোশার পাখির একটি তালিকা রয়েছে। এদের বেশিরভাগই বন্য পাখি। ইহুদিদের খাবারে সামুদ্রিক খাবার এবং মাছ সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ জড়িত। মাছ রান্না করার জন্য অবশ্যই স্কেল এবং ডানা সহ নিতে হয়। টুনা, স্যামন, সার্ডাইনস, পাইক, হারিং, হালিবুট, ফ্লাউন্ডার, কড, কার্প, পার্চ এবং স্প্রেট খায়, কিন্তু ইল এবং ক্যাটফিশ খায় না। ঝিনুক, শামুক, চিংড়ি এবং গলদা চিংড়িও খায় না। তারা ইস্ট দ্বারা প্রস্তত খামিরের রুটি খায় না। কোশের আইনে গরুর মাংস এবং দুগ্ধজাতীয় পণ্যগুলিকে একত্রিত করাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাদের আইনে একটি কোশের খাদ্য যা প্রক্রিয়াকৃত বা একটি অ-কোশার খাবারের সাথে একত্রে রান্না করা হয়, বা কোন কোষের খাদ্যের কোনও অংশ মেশে, তখন সেটিও না-কোশার হয়ে যায়। কোশার রান্না করার কোন স্টাইল নয়, তাই যে কোন ইটালিয়ান, চাইনিজ, ফ্রেঞ্চ, ইত্যাদি খাবার ইহুদী আইন অনুসারে প্রস্তুত হলেই তা কোশার হতে পারে।

 

জলপাই, গম, ছোলা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ এবং সবজি যেমন টমেটো, বেগুন এবং জকচিনি তাজা ফল এবং সবজি, কমলা, লেবু এবং আঙ্গুর, ডুমুর, ডালিম ও জলপাই আম, কিয়ি এবং কলা, আঙ্গুর, আপেল এবং চেরি তাদের খাদ্যতালিকার সিংহভাগ দখল করে রেখেছে। বিভিন্ন ধরনের পনির (নরম ও শক্ত), দই, ল্যাবনি এবং টক মাখন, সবজি ও স্যালাদ, জলপাই, সিদ্ধ ডিম অথবা আমুলেট, আচার, বিভিন্ন ধরনের রুটি এবং তাজা কমলা রস এবং কফি তাদের হাল্কা খাবারের অংশ। ইহুদীরা দৈনন্দিন জীবনে নৈশভোজের পরিবর্তে মধ্যাহ্নভোজে তারা প্রধান খাবার গ্রহন করে। যেমনঃ ফ্যালাফেল (একপ্রকার মাংসের কাবাব, রুটি ও প্রচুর সব্জি দ্বারা তৈরি খাবার), হুম্মুস(ছোলার ঘুগনী) মেসাব্বাহা (হুম্মুসের ছোট ভাই), শাকসহুকা (টমেটোর তরকারীতে ডোবানো ডিম পোচ), কুসকুস ( একপ্রকার ক্ষুদের ভাত বা জাউ) এর মত খাবারগুলি তাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়।

এর প্রত্যেকটা খাবারই লো ফ্যাট, হাই প্রোটিন, মিনারেলস ও ফাইভার সমৃদ্ধ। তাদের স্বতন্ত্র ঐতিহ্যবাহী খাবার হল শাবাথ এবং বিভিন্ন ইহুদি ছুটির দিনগুলিতে চাল্লাহ(মধু মিম্রিত রুটি), জাকনুন (মধু মিশ্রিত নরম পিঠা), মালাখ ( মধু পিঠা) গফিল্ট মাছ, হ্যামিন, মেওরভ ইয়র্শল্মী এবং সুবহানিয়াট প্রভৃতি। এগুলোর প্রত্যেকটির প্রস্তপ্রনালিতে মধুর ব্যবহার রয়েছে। বাকলাভা একটি বাদামে ভরা প্যাস্ট্রি যা মধু সিরাপ দিয়ে মিষ্টি করা হয় এবং ইহুদিদের সম্প্রদায়ের উৎসবে ব্যবহৃত হয়।

মধু ইহুদি বিশ্বে একটি শক্তিশালী জিনিস। ইস্রায়েলিরা প্রতি বছর ৪,৫০০ টন মধু পান করে। ইস্রায়েলি মধু বোর্ডের মতে, রোশ হাসানাহ (রশ হাশানাহ, আক্ষরিক অর্থে “বছরের প্রধান” অর্থ ইহুদিদের নববর্ষ) অবধি সময়কালে ইস্রায়েলিরা সামগ্রিক বার্ষিক গ্রহণের ৪০ শতাংশ মধু গ্রহণ করে। ইহুদী রীতিনীতি ও ধর্মে মধু একটি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। তাদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত এর সর্বত্র মধু কে রূপক হিসাবে পরিবেশন করেছে, যেমন গীতসংহিতা ৪:১১ এর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছেঃ “তোরাতের মিষ্টি আপনার ঠোঁট থেকে ফোঁটা, মধু এবং দুধের মতো এটি আপনার জিহ্বার নীচে থাকে।” (এর মানে কী আমার জানা নাই)। উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসিকাল ইহুদী বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রাথমিক রাব্বিনিক (ইহুদী পন্ডিত) “ইহুদী ধর্মের খাদ্য ও পরিচয়” এর লেখক জর্দান ডি রোজেনব্লুম জানান, ইহুদী সমাজে মধু সেবন করা প্রায়শই তাওরাতের জ্ঞান সেবন করার প্রতীক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তাওরাতে প্রাচীন ইস্রায়েলীদের কাছে তাদের আবাসভুমিকে “দুধ ও মধুর দেশ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

মধু কে ইহুদীরা “শেহাকোল” এর মর্যাদা দেয়। ইহুদী আইনে মাটি থেকে বাড়তে না পারে এমন সমস্ত উদ্বিজ্জ খাবারকে “শেহাকল” বলা হয়। এর মধ্যে আছে প্রাণীজ পণ্য যেমন: মাংস, মুরগী, মাছ এবং ডিম; পানি এবং অন্যান্য সমস্ত পানীয় (ওয়াইন ব্যতীত); এবং বিবিধ খাবার যেমন মাশরুম, ক্যান্ডি ইত্যাদি। ইহুদীদের রেবের শ্লোকে উল্লেখ আছে “মধু সত্যই তার পূর্ববর্তী সমস্ত প্রজাতির চূড়ান্ত। খেজুর গাছগুলি বৃদ্ধি পেতে দীর্ঘ সময় নেয়, প্রবাসের সময় আমাদের অবশ্যই করা প্রচেষ্টার প্রতীক, যখন মিষ্টি মধু সেই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ আমরা মেসেরীয় যুগে আধ্যাত্মিক ফলগুলি উপভোগ করব”

 

ইহুদীদের ছুটির দিনগুলি ঐতিহাসিকভাবে মধু দিয়ে চিহ্নিত। প্রাচীন কাল থেকেই সেফার্ডিক এবং মিজরহী ইহুদিদের মধ্যে মধুর সিরাপের সাথে সুস্বাদু মিষ্টান্ন এবং তিশি, নাশপাতি, মধু ও বাদাম দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ কেক তাদের বাকলভা সুকোট উৎসব এবং অন্যান্য ছুটিতে জনপ্রিয়। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর রশ হাশানাহ উৎসব উদযাপনে “একটি ভাল এবং মিষ্টি নতুন বছরের জন্য প্রার্থনা” করতে এবং বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য মধু সহ মিষ্টি পরিবেশন করা ইহুদী সমাজে প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর উৎসবে, মধু কেক ইহুদিদের রন্ধনসম্পর্কীয় রীতিনীতিতে অপরিহার্য। রশ হাশানাহে মিষ্টি নতুন বছরের উদ্রেকের আশায় মধুতে ডুবিযে রাখা আপেল খাওয়ার রীতি আছে।

 

আপেল ছাড়াও ইহুদীরা চালাহকে (এক প্রকার বিশেষ রুটি, সাধারণত শাবত এবং প্রধান ইহুদি ছুটির মতো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানগুলিতে খাওয়া হয়। যথাযথভাবে গ্রহণযোগ্য চালা ময়দার তৈরি যা থেকে একটি ছোট অংশ আলাদা করা হয়) মধুতে ডুবিয়ে রাখে। তারা সমস্ত উৎসব জুড়েই এই এটি অব্যাহত রাখে। এই আচারটি খুব গুরুত্বের সাথে করে।

 

এদিন তারা সারারাত যাবুর তেলাওয়াত করে, একটি মিষ্টি বছরের জন্য প্রার্থনা করে, মধুতে ডুবানো একটি আপেল খেয়ে আবৃত্তি সমাপ্ত করে। তারা এসমস্ত উৎসব উপলক্ষে হিব্রু বর্ষের তৃতীয় মাসে ব্যক্তি প্রতি প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম মধু পান করে। এছাড়াও রশ হাশানাহ উৎসবে সিক্সটন বা রাব্বি (ইহুদী পন্ডিত) নতুন একটি মধুর বছরের কামনায় জনগনের মধ্যে মধু কেক বিতরণ করে। ইস্রায়েলের মধু কেক, যার নাম ইহুদিয়ান নাম লেকাচ, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার রশ হাসানাকে থাকতে হয়। এটি মজাদার মধু, কমলার রস এবং কখনও কখনও কফি দিয়ে তৈরি একটি মিষ্টি কেক, যা একটি মিষ্টি নতুন বছরের প্রতীক। ইহুদী সমাজে এই মধু কেক সিক্সটন বা রাব্বিদের কাছ থেকে “ভিক্ষা” করে নেয়ার রীতি আছে, যার মাধ্যমে তারা আশা করে যে এবারই তাদের শেষবারের জন্য ভিক্ষা করতে হবে এবং তারা আসন্ন বছরে স্বাবলম্বী এবং স্বাধীন হবে।

 

তারা শরওট (উৎসব) ছুটিতে দুধ এবং মধুর পণ্য খায়, এবং তাওরাত নাযিলের উদযাপন করে। খাবার গ্রহনের পর তাদের দোয়ার একটি আয়াতে ইস্রায়েলের ফল এবং শস্যের “সাত প্রজাতির” প্রশংসা করা হয়, যাতে মধুও রয়েছে। তাদের মধু বোর্ডের মতে, রোশ হাসানাহ অবধি সময়কালে ইস্রায়েলিরা সামগ্রিক বার্ষিক গ্রহণের ৪০ শতাংশ মধু গ্রহণ করে। তারা মধুর স্বাদকে আলৌকিক ফল “মান্না” র স্বর্গীয় স্বাদ হিসেবে বিবেচনা করে, তারা ধারনা করে এ স্বাদ টি “মধুতে ডুবানো একটি কেক” এর মতো। যেহেতু মান্না (মান্না সালওয়া) মরুভূমিতে ইহুদিদের ৪০ বছর ধরে টিকিয়ে রেখেছিল, তাই তারা মধু মিশ্রিত এ খাবারটিকে খুবই সমীহ করে।

 

মৌমাছি পালন আধুনিক ইস্রায়েলে রাজ্যটি প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই একটি পেশা হয়ে আসছে। ইস্রায়েলি মধু উৎপাদন ও বিপণন বোর্ড বলে যে এই ‘দুধ ও মধুর জমিতে’ ১৮৮২ সালেও মধুর বাণিজ্য ছিলো। সারা দেশে তাদের প্রায় ৮০০ এর অধিক মৌচাক পালনকারী আছে যারা ১০০,০০০ মধু খামার পরিচালনা করে। তারা ৩৫০০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন করে তাদের অর্থনীতিতে বৎসরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের যোগান দেয়। সমস্ত মৌমাছি পালনকারী নিবন্ধিত এবং মধু বিপণন বোর্ড কে একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে । এ মধু বিপণন বোর্ড সমস্ত অবস্থানের বিশদ মানচিত্র সংরক্ষন করে। আরেকটি সংস্থা হলো ইস্রায়েলি মৌমাছি পালনকারী সংস্থা। এটি প্রতিবছর ইহুদিদের ছুটির দিনে হানুকাহ নামে একটি সম্মেলন করে এবং এটি একটি নিখুঁত জার্নাল প্রকাশ করে, যা নিবন্ধিত সমস্ত মৌমাছির কর্মীদের হাতে দেওয়া হয়। এ বোর্ড মৌমাছি পালন শিল্পকে সেবাদানের জন্য কীটনাশক ভাইরাসবিদ, রাসায়নিক বাস্তুশাস্ত্র, এবং অবশিষ্ট রসায়নবিদ সহ সমস্যাগুলি পর্যবেক্ষণে উচ্চ-শক্তি সম্পন্ন বিজ্ঞানীদের একটি দল সার্বিক সহায়তা করে। এর অন্তর্গত মৌমাছি গবেষণা কেন্দ্র টি ১৯৫০ সাল হতে দেশজুড়ে মধু মৌমাছি জীববিজ্ঞান মৌমাছি পালন পরিচালনায় অগণিত শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ১৯৯৭ সাল থেকে সেখানে মৌলিক মৌমাছি জীববিদ্যার গবেষনা চলে।

ইস্রায়েলে মৌমাছির ১,১০০ প্রজাতি রয়েছে, তারপরও তারা বেলজিয়াম থেকে সক্রিয়ভাবে কিছু জিনগত উপাদান আমদানি করে রানী মৌমাছি প্রজননকাজ চালিয়ে যাচ্ছে যে রানী মৌমাছিরা বার্ষিক পুনরায় রানী হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হয়, কেননা তারা গবেষনা করে দেখেছে যে অল্প বয়স্ক রাণীগুলি ঝাঁক কমিয়ে দেয়, ২০% মধু উৎপাদন হ্রাস করে। এর বাইরেও উচ্চতর শিক্ষার আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মধু মৌমাছির গবেষণা এবং মৌমাছি পালন শিল্পকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে জড়িত। বর্তমানে তাদের মৌমাছি প্রতি তারা বছরে প্রায় ৩৫ কেজি মধু উৎপাদন করে। তাদের ৭ হাজার একর বাণিজ্যিক গাছপালার ক্ষেত্র রয়েছে যেখান থেকে তারা তাদের মধু উৎপাদন করে। সেখানে মিলিয়ন মিলিয়ন ইউক্যালিপটাসের এরিথ্রোক্রিস প্রজাতির রয়েছে। একটি বিশেষ প্রকল্পের বেস হিসাবে ইস্রায়েলের কিছু নার্সারিতে ইউক্যালিপটাসের এই বিশেষ প্রজাতিগুলর হাইব্রিড উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা উন্নতমানের পরাগ প্রজনন করে।তাদের মৌমাছি পালনকারীরা জেএনএফ-কে কেএল-এর সাথে মধু উৎপাদনে সহায়তার জন্য বার্ষিক পরাগ উতপাদন করে এমন প্রায় ২,০০০০০ উদ্ভিদ রোপণ করতে সহযোগিতা করেছে।

এক ইহুদী অধ্যাপক আইসিকোইচ উদ্ভাবন করেন পরাগায়ন বাস্তুশাস্ত্র। যিনি ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক পরাগ স্থানান্তরের একটি উপায় উদ্ভাবন করেন যেখানে পরাগে পাতানো ধোলাইয়ের মতো দেখতে একটি মেশিন থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে ধনাত্মক চার্জ যুক্ত হয়। এ মেশিন থেকে বের হওয়া ধনাত্মক চার্জযুক্ত পরাগ দ্বারা গাছের পরাগ গুলি আকৃষ্ট হয়। পদ্ধতিটি এখন ইস্রায়েলে পরাগায়নে ব্যবহৃত হয়। মৌমাছি পালনকারীরা মধু মৌমাছিদের মধুচক্র থেকে বেরিয়ে আসার সাথে সাথে তাদের চার্জ দেয়া বিশেষ পরাগ নিয়ে মধু মৌমাছিকে সন্ধান করাতে ব্যবহার করেন। তারা মৌচাকগুলি পর্যবেক্ষণ করতে মৌমাছি সেন্সর ব্যবহার করে। ওয়ার্ল্ড বি প্রজেক্ট নামে একটি প্রতিষ্টান তাদের ডেটা সংগ্রহ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে যা তাদের কৃষকদের মৌমাছির আবাস সংরক্ষনে সহায়তা করে।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় মৌমাছি ও মধু পালন সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম প্রোভাইড করে। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “মাশব” প্রোগ্রাম নামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ বৃত্তি প্রদান করে। সাধারণত উন্নত দেশগুলির আবেদনকারীরা এই বৃত্তি পেয়ে থাকে।

 

ইস্রায়েলি বিজ্ঞানীরা মৌমাছি ছাড়াই মধু উৎপাদন করতে সক্ষম। ইসরায়েল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির মতে তাদের গবেষকরা জিনগতভাবে পরিবর্তিত ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে মৌমাছি মুক্ত মধু উৎপাদনের জন্য একটি নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে। এ মৌমাছি হীন মধু ব্যাসিলাস সাবটিলিস নামক এক বিশেষ ব্যাকটিরিয়া দ্বারা উৎপাদিত, যা পরীক্ষাগারে পুনরায় প্রোগ্রামিং করে মধু তৈরি করতে “শিখেছে”। মৌমাছি মধু উৎপাদন করতে তাদের শরীরের “মধু থলে” তে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন এনজাইম ব্যবহার করে ফুলের অমৃতকে হজম এবং ভালভাবে সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়। তাদের গবেষকরা এক নতুন পদ্ধতিতে “মধু থলে” তে অবস্থিত প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়াগুলি এক বিশেষ ঝিল্লি-ভিত্তিক ক্যাপসুল ব্যবহার করে পৃথক করতে পেরেছে। তারা একটি সিনথেটিক সার্কিটও তৈরি করে যা মৌমাছি মুক্ত মধুর গুনাবলী ও উপাদান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমগুলির প্রতিলিপি প্রস্তত করে, এর স্বাদ নির্ধারণ করে এবং এটি পছন্দসই অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে উপযুক্ত করে তোলে। এই প্রক্রিয়াটির অনুলিপি করতে, দলটি পুরো “সিনথেটিক মধু পেট” বিপাকীয় পথের একটি বিস্তৃত মডেল স্থাপন করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) দ্বারা ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতা, যা শিক্ষার্থীদের সিন্থেটিক বায়োলজিতে বৈজ্ঞানিক এবং ফলিত গবেষণার সমস্ত দিক নিয়ে অধ্যয়ন এবং পরীক্ষার সুযোগ দেয়। সেখানে মধু তৈরি করা সম্ভব মধু ব্যাকটিরিয়াম ব্যবহার করে, মৌমাছি নয়- এই গবেষনা পরিবেশন করে ইজরায়েলের বায়োটেকনোলজি এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১২ জন ইহুদী শিক্ষার্থীর একটি দল প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে নেয়।

এখন প্রশ্ন হলো আমরা কি ইহুদিদের মতন এমন একটা বুদ্ধিমান প্রজন্ম তৈরী করতে পারবো? উত্তর হ্যাঁ, করতে পারবো। কিন্তু এর জন্য শুরু করতে হবে একেবারে গোড়ার থেকে। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভাস পরিবর্তন করতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে আমাদের বাচ্চা লালন পালনের পদ্ধতিকে। তাহলেই হয়ত মাত্র ৩ প্রজন্ম পর এটা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হব।

ইহুদী গর্ভবতী নারীদের খাদ্যাভ্যাস দিকে নজর দেয়া যাকঃ

গর্ভবতী মায়েরা আলমন্ড, খেজুর, দুধ আর মধু বেশি করে খায় কারন এগুলো গর্ভস্থ শিশুর মস্তিস্ক গঠনে সবচে কার্যকর। দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে রুটি এবং মাছ (অবশ্যই মাথা ছাড়া), আলমন্ড এবং অন্যান্য বাদাম ও মধু যুক্ত সালাদ। তারা বিশ্বাস করে, মাছ মস্তিষ্কে পুষ্টি সরবরাহ করে অপর দিকে মাছের মাথা মস্তিষ্কের জন্য খারাপ। এছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের কড লিভার খাওয়া ইহুদী সংস্কৃতির একটি অংশ। তাদের বিশ্বাসমতে মাছ এবং মাংস একসাথে খেলে তা শরিরের কোনো কাজে লাগে না। অপর দিকে সালাদ এবং বাদাম তাদের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই থাকবে, বিশেষ করে আলমন্ড। তারা যে কোনো প্রধান আহারের আগে ফল খাবে। এরপর কড লিভারের তেল খাবে। তাদের বাচ্চারা কি খাবার খাবে সেটা পিতামাতা ঠিক করে দেয়।

ইহুদী রাব্বি(পন্ডিত) দের মতে, মৌমাছিরা ফুল থেকে অমৃত সংগ্রহ করার জন্য অনেক মাইল উড়ে তারপর মধু উৎপাদন করে, আবার গাভীদের দুধ উৎপাদন করতে কোথাও যেতে হয় না, দুধ সরাসরি তার ভেতরে নিজে থেকেই আসে, তেমনই, একজন ব্যক্তি দুটি পদ্ধতিতে তাওরাত শিখেন: এক, অন্যের কাছ থেকে অন্তর্দৃষ্টি সংগ্রহ করে, অর্থাৎ বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে শিখেন। অথবা যে কেউ নিজের “তাওরাত অন্তর্দৃষ্টি” বিকাশ করে সৃজনশীল এবং মূল জ্ঞানী হতে পারেন। তারা বিশ্বাস করে যে “মধু এবং মিষ্টি অন্তদৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে, মধু একজনকে জ্ঞানী করে তোলে”।

আমাদের কোরআন অধ্যায়ন নিয়ে আমরা কি কখনো এভাবে ভেবে দেখেছি??

আবার দেখুনঃ ইহুদী সমাজে তিন বছরের শিশু যখন প্রথমবারের মতো চেদার এ (ইহুদীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে) তাওরাত শিখতে শুরু করে, তখন অক্ষর পরিচিতি বই এর পৃষ্টাতে মধু মাখিয়ে রাখে, যা শিশুটি চেটে খায়, এভাবে শিশু তওরাতকে আনন্দ ও স্বাদে যুক্ত করে নিয়ে শিখতে শেখে।

আশকেনাজি ইহুদিদের মধ্যে মধু পান করার বিষয়টিকে কে শেখার সাথে আবদ্ধ করা হয়েছে। তাদের সমাজে ছোট বাচ্চাদের চেদার এ প্রবেশের সময় জ্ঞানের স্বাদ গ্রহণের উপর জোর দেওয়া প্রকৃয়ায় হিব্রু অক্ষর লিখিত স্লেটে মধু মাখিয়ে দেয়া হয় এবং শিশুদেরকে তা চাটতে বলা হয়, যাতে জ্ঞান গ্রহণের বিষয়টা (বিশেষ করে তাওরাতের জ্ঞান) তাদের কচি মনে মধুর মতো মিষ্টি হিসেবে গেঁথে যায়।
আমাদের কুরআনেও তো মধুর কথা বলা আছে।

আমাদের সন্তানদের কি কখনো এমন অভাবনীয় পদ্ধতিতে ধর্মীয় শিক্ষা দেবার কথা আমাদের মাথায় এসেছে??

শুধু তাইই নয়, ইহুদীরা মৌমাছি থেকেও জীবনের অনেক পাঠ নেয়।

তারা বলে থাকে “মৌমাছি যেমন তার মালিকের জন্য উৎপন্ন সমস্ত জিনিস জমা করে রাখে, তেমনি আমরা, ইস্রায়েলের লোকেরাও স্বর্গের পিতার জন্য আমাদের কার্যকলাপগুলি সংরক্ষণ করি।” মৌমাছিরা যেমন নিজেদের সংগ্রহ করা মধু নিজেরা খায় না, বরং অন্যের জন্য এটি উৎপাদন করে, একইভাবে, ইহুদি জনগণও স্বকীয় স্বার্থের জন্য, স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দেশ্য নিজ স্বার্থ ব্যতিরেকে দেশ ও জাতির জন্য অবদান রাখে। মৌমাছি যেমন মুখ থেকে সুমিষ্ট মধু বের করে আবার অন্যদিকে প্রয়োজনে বিষাক্ত হুল বের করতে পারে, তেমনই একজন ব্যক্তির চরিত্রও দু’টি চরমের সমন্বয়ে গঠিত, করুণার বৈশিষ্ট্য এবং তীব্রতার বৈশিষ্ট্য। মৌমাছি নাকী তাদেরকে শেখায় মধুর মতো আকর্ষণ করতে এবং কাছে আসলে মধুর মতো ব্যবহার করতে এবং হুল নিয়ে সদা প্রস্তত থাকতে। মৌমাছির প্রাথমিক কাজ মধু তৈরি করা, তবুও এর হুলটি হলো তার সম্পদ রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা। সুতরাং, এ উদাহরন থেকে তাদের মূল ফোকাস হ’ল ইতিবাচক আদেশগুলি মেনে চলে খারাপ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি নেগেটিভ আদেশগুলি দ্বারা পূর্বেরটিকে সুরক্ষা করা এবং সুরক্ষায় পুর্ন সহায়তা দেয়া।

আমাদের মূল ফোকাস কেন আজ শুধু অন্যের পেছনে তাকানো? ইহুদীরা সামান্য মৌমাছি থেকে কি চমৎকার শিক্ষনীয় বিষয় বের করে এনেছে, আমাদের মেধা বুদ্ধি কি এতই কম ছিলো? আমরাও কি পারি না এরকম শিক্ষা গ্রহন করতে???

ইহুদী মহিলাদের গর্ভাবস্থার প্রাকপ্রস্তুতি চমকপ্রদ। গর্ভবতী মায়েরা সবসময় গান বাজনা এবং পিয়ানো বাজায় এবং তাদের স্বামীদেরকে নিয়ে গণিতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। গর্ভবতী মহিলারা সবসময় গণিতের বই সাথে নিয়ে ঘোরে। প্রজনন বিজ্ঞান বলে, গর্ভবতী মা যেসব কাজ করে, যা দেখে, যা পড়ে, যা ভাবে সেসবের প্রভাব গর্ভস্থ সন্তানের উপর পড়ে।ইহুদী নারীরা এ বিষয়টা চরম গুরুত্ব দেয়। এরই অংশ হিসেবে তারা বাচ্চা প্রসবের পূর্ব পর্যন্ত গাণিতিক সমস্যার সমাধান চালিয়ে যায়।

ইস্রাইলে ধূমপান করা নিষিদ্ধ। ইসরাইলী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে, ধূমপান মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয় এবং শরীরের জ্বীন এবং ডিএনএ কে ক্ষতিগ্রস্থ করে ফলে বংশপরম্পরায় ত্রুটিযুক্ত মস্তিষ্কের কোষযুক্ত বাচ্চা জন্মগ্রহন করবে । এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, পৃথিবীর বড় বড় সব সিগারেট কোম্পানিগুলো ইহুদীদের অথচ তাদের দেশে ধূমপান নিষেধ!।

প্রত্যেকটি ইহুদী বাচ্চারই সাধারনত তিনটি ভাষার উপর দখল থাকে – হিব্রু, আরবী এবং ইংরেজী। শিশুকাল থেকেই প্রত্যেকটি বাচ্চাকে ভায়োলিন এবং পিয়ানো বাজানোর প্রশিক্ষন দেওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে এতে করে তাদের আইকিউ লেভেল এর বৃদ্ধি ঘটে এবং বাচ্চারা মেধাবী হয়ে বেড়ে উঠে। জিউস বিজ্ঞানীদের মতে, সঙ্গীতের কম্পন মস্তিষ্কের কোষগুলোকে উদ্দীপিত করে। একারনেই ইহুদীদের মাঝে এত মেধাবী মানুষ দেখা যায়।

ক্লাশ এক থেকে ছয় পর্যন্ত তাদেরকে গনিত এবং ব্যবসাশিক্ষা শিখানো হয়। বিজ্ঞান তাদের এক নম্বর পছন্দের বিষয়। ইহুদি বাচ্চারা কিছু বিশেষ ক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে যেমন, দৌড়, ধনুবিদ্যা এবং শুটিং। তারা মনে করে শুটিং এবং ধনুবিদ্যা তাদের মস্তিষ্ক্যকে সঠিক ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান শিক্ষার উপর বিশেষ জোর প্রদান করা হয়। এসময় তারা বিভিন্ন প্রজেক্ট বানাতে চেষ্টা করে থাকে। তবে সবচে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয় যুদ্ধোপকরন, ঔষধ কিংবা যন্ত্রবিজ্ঞান। যে সকল প্রকল্প বা ধারনাগুলো সফলতা পায় সেগুলোকে উচ্চবিদ্যাপিঠগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আরো ভালো ভাবে গবেষনা করবার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরে ব্যবসা শিক্ষা অনুষদকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবসা শিক্ষার সকল ছাত্র ছাত্রীদের একটি করে প্রজেক্ট দেওয়া হয় এবং তারা যদি তাদের গ্রুপের মাধ্যমে (প্রতি গ্রুপে আনুমানিক ১০জন) সেই প্রজেক্ট থেকে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার লাভ করতে পার তবেই তারা পাশ করতে পারে ও ড্রিগ্রি পায়। এটাই বাস্তবতা । এবং এই কারনে পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইহুদীদের দখলে।

পৃথিবীর সবচে বড় হোটেল ব্যবসায়ী, সবচে বড় স্টক এক্সচেঞ্জের মালিক, সবচে বড় মিডিয়া কর্পোরেশনের মালিক, সবচে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের জনক, গুগলের জনক, সবচে সেরা মোবাইল সেট নির্মাতা কোম্পনীর মালিক ইহুদী ।
যদি কোনো ইহুদী ব্যাক্তির লাভজনক কোনো আইডিয়া থাকে তাহলে সেই বানিজ্যিক কেন্দ্র হতে সুদবিহীন মূলধনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় এবং সেটাকে সফল করতে সব ধরনের সহযোগীতা প্রদান করে থাকে। একই ভাবে জিউস কম্পানিতে যেমন স্টারবাক্স, লিভাইস,হলিউড, ওরাকল, কোকাকোলা ডানকিন ডোনাট সহ যে সকল প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের ফ্রী স্পন্সরশীপ দেওয়া হয়। আমেরিকায় ইহুদিদের বাণিজ্যিক কেন্দ্র নিউইয়র্কে অবস্থিত যেখান থেকে তাদের জন্য খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। যদি কোনো ইহুদি ব্যক্তির লাভজনক কোনো আইডিয়া থাকে তাহলে সেই বাণিজ্যিক কেন্দ্র হতে সুদবিহীন মূলধনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় এবং সেটাকে সফল করতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। একইভাবে অন্য ইহুদি কোম্পানিগুলো যেমন– স্টারবাক্‌স, লিভাইস, হলিউড, ওরাকল, কোকাকোলা, ডানকিন, ডোনাটসহ যে সকল প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা ফ্রী স্পন্সরশিপ করে। নিউইয়র্কে ডাক্তারী পাস করে যে সকল ইহুদি ছাত্রছাত্রী বের হয় তাদেরকে এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের আওতায় নিবন্ধন করে বেসরকারীভাবে প্র্যাকটিস করতে সুদবিহীন লোনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

ইহুদীদের এসব বুদ্ধি ও টেকনিক কি আমরাও পারি না ফলো করে লাভবান হতে?

মহাদয়াময় দাতা আল্লাহ তায়’লা আমাদের তথা বিশ্বমুসলমানদের মাঝে বিদ্যমান পারস্পরিক অনৈক্য, অনাস্থা, ভেদাভেদ সম্পুর্ন রুপে দুর করে তার স্থলে একতা, আস্থা আর শক্তিশালি জোড়-মিল-মোহাব্বত দ্বারা পুর্ন করে দিন। আমাদেরকে জ্ঞানে সম্মানে সম্পদে আবারো ইহুদীদের চাইতেও অনেক বেশী সমৃদ্ধশালী করে দিন।

আমিন।।

 

 

 

 

2 thoughts on “বর্তমান বিশ্বে মুসলমানদের করুন দুর্দশা, ইহুদীদের নজিরবিহীন সাফল্য ও মধু”

  1. Sayed Iquram Shafi

    শিক্ষণীয় লেখা। প্রায় ৪ বছর আগে আমি এ বিষয়ে একটা পোস্ট লিখেছিলাম। তবে সেটার আকার আরেকটু ছোট। জাজাকাল্লাহু খায়রান।

    1. শুনে ভালো লাগলো। নিশ্চয়ই উপভোগ্য ছিলো সে লিখাটি। যদি সেটা আমাদেরকে দেন তবে এ সাইটে ব্লগ আকারে পোস্ট করবো ইনশাল্লাহ।
      ওয়া ইয়্যাকা.. ভালো থাকুন, মতামতের জন্য অশেষ ধন্যবাদ :-)..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Call Now Button