আশ শেফা মধুঘর

ঠাণ্ডার, এলার্জি ও শ্বাসকষ্টের জন্য মধু ও রুকইয়াহ

রুকইয়াহ

 

হঠাৎ হাঁপানি উঠেছে, অথবা কাশতে কাশতে দম বের হয়ে যাচ্ছে, হাতের কাছে ইনহেলার বা ভালো কোন ঔষধ নাই, অথবা এলার্জির জন্য হাঁচি হতেই আছে, থামার নামগন্ধ নাই, চোখ চুলকিয়ে অবস্থা কেরোসিন হয়ে যাচ্ছে, ঔষধ খেয়ে খেয়ে বিরক্ত। অথবা রোজা আছেন তাই ঔষধ খেতে পারছেন না।

কি করবেন?

দুই হাত মুনাজাতের মত করে মুখের কাছে আনবেন, এরপর হাতের ওপর সুরা ফাতিহা পড়বেন কয়েকবার। এরপর হাত দিয়ে একদম অক্সিজেন মাস্কের মত করে নাকমুখ ঢেকে নিয়ে জোরে জোরে নিশ্বাস নিবেন। এভাবে কয়েকবার করবেন। ইনশাআল্লাহ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

ব্যাপারটা এমন, যেন আপনার হাতটাই অক্সিজেন মাস্ক, সেখানে ঔষধ দেয়া আছে, তা নিশ্বাসের সাথে টেনে নিয়ে আপনি উপকৃত হচ্ছেন। অল্প কথায় বললে, আপনার দুইহাতকে অক্সিজেন মাস্কের মত করে মুখের কাছে নিয়ে সুরা ফাতিহা পড়বেন, এরপর জোরে জোরে নিশ্বাস নিবেন। এভাবে কয়েকবার করবেন। ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে।

– প্রশ্নঃ ফুঁ দেয়া লাগবে?

– নিজের জন্য করলে ফুঁ দেয়ার দরকার নাই, শুধু পড়ে শ্বাস নিলেই হবে। বাচ্চা অথবা অন্য কারও সমস্যার জন্য হলে আপনি পড়ে তার হাতে ফুঁ দিয়ে দিন, সে শ্বাস নিবে।
দীর্ঘস্থায়ী উপকারের জন্য প্রতিদিন এই রুকইয়াহটি করুন। আমি এটা থেকে বেশ উপকার পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ🥰🥰🥰

এর পাশাপাশি সর্দি কাশি ঠান্ডায় মধু ব্যাবহার বেশ ফলপ্রসু হতে পারে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স (এনআইসিই) এবং পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নতুন একটি প্রস্তাবিত নির্দেশিকা প্রকাশ করে। সেখান থেকে জানা যায়, সর্দি কাশি হলেই এখন আর ঘড়ির কাঁটা গুনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া জরুরি নয়। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক হতে পারে মধু। তাদের এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যারা কাশির সমস্যায় ভুগছেন তাদের চিকিৎসায় অব্যর্থ ভূমিকা রাখতে পারে মধু। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকও এতো ভাল কাজ করেনা। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে এনআইসিই এর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের অনুৎসাহিত করেন। কেননা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োগের ফলে মানুষের শরীর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ধরণের ইনফেকশন সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়।

তবে কাশি যদি বড় ধরণের কোন অসুস্থতার কারণে হয়ে থাকে, অথবা রোগী যদি আরও জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকে যেমন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে।
সেখান থেকে আরোও জানা যায়, কফের সমস্যা পুরোপুরি সারিয়ে তোলার ব্যাপারে যেসব কফ মেডিসিনে পেলারগোনিয়াম, গুয়াইফেনেসিন বা ডিক্সট্রোমেথরফ্যান উপাদান রয়েছে সেটা বেশ উপকারী হতে পারে। রোগীদের ঘরোয়া পানীয় তৈরির পাশাপাশি এ ধরণের ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

তবে কাশি বেশিরভাগ সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়। তাই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে নিজে নিজে রোগ সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভাল। এর পাশাপাশি ঘরোয়া সমাধান ট্রাই করা যায়।

গরম পানিতে সামান্য মধু, লেবুর রস আর আদার রসের মিশ্রণ কফ এবং গলা ব্যথা নিরাময়ের জন্য বহুল প্রচলিত একটি ঘরোয়া পানীয়। যখন আপনার ঠান্ডা লাগে বা ফ্লু হয় তখন অনেক বেশি হাঁচি, কাশি এবং ঘাম হতে থাকে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে। আর এতে করে শরীর কিছুটা পানি শূণ্যও হয়ে পরে। আর তাই ঘাটতি পূরণের কথা বলা হচ্ছে।

মধু বেশ উপকারি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। মধু এক্ষেত্রে আদর্শ ওষুধ হলেও এক বছরের বয়সের নীচে শিশুদের মধু খাওয়াতে নিষেধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা মধুতে অনেক ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যেটা খেলে শিশুর পেট খারাপের ঝুঁকি থাকে।

যদি কাশি সেরে ওঠার পরিবর্তে দিন দিন খারাপের দিকে যায়, অথবা রোগী যদি খুব বেশি অসুস্থ বোধ করেন বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে তবেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। [সুত্রঃ বিবিসি।]

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Call Now Button