আশ শেফা মধুঘর

মধু সংরক্ষনের নিয়ম কি?

মধু সংরক্ষনের নিয়ম কি? বা কিভাবে রাখবো, কোন পাত্রে রাখবো, কাঁচের পাত্রে নাকি প্লাস্টিকের? মধু কি ফ্রিজে রাখতে পারবো? মধু কতদিন ভালো থাকে?

মধু বিক্রেতা হওয়ার সুবাদে এ ধরনের প্রশ্ন আমাদের প্রায়ই শুনতে হয়।

এটা স্বাভাবিক, কারন আমরা মধু বিষয়ক অনেক সঠিক তথ্যই জানিনা। দীর্ঘদিন যাবৎ মধু নিয়ে কাজ করার সুবাদে, বানিজ্যিক ভাবে নিজেরা মধু সংরক্ষন করার আলোকে এখানে আমরা মধু সংরক্ষনের চারটি বেসিক নিয়ম নিয়ে বলছিঃ

মধু সংরক্ষনের চারটি নিয়ম:

মধুর একটি চমৎকার ব্যাপার হলো, এতে সহজে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। এবং তাই এটি দ্রুত নষ্টও হয় না। তবে এর পরেও কিছু ব্যাপারে নজর দেওয়া দরকারঃ

 

১. মধু সংরক্ষনের জন্য শুকনা বায়ুরোধী পাত্র ব্যাবহার করা উচিৎ:

 

এক্ষেত্রে, কাঁচের পাত্র সবচেয়ে ভালো। বিশেষ প্রয়োজনে, ফুড গ্রেড প্লাস্টিকে রাখা যেতে পারে।

 

২. পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করা:

   

মধু যদি খোলা রাখা হয় তবে তা বাইরের অন্যান্য গন্ধ, দুর্গন্ধ ও আদ্রতা শোষন করে। এতে মধু নষ্ট হয়ে যায়। সাধারন গুন, গন্ধ বা স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়।

 

৩. সরাসরি সুর্যের আলো থেকে দুরে রাখুনঃ

 

মধু সংরক্ষনের জন্য সরাসরি সুর্যের আলো পড়ে না এমন স্থান বেছে নিন। পাশাপাশি এমন স্থানও পরিহার করুন যেখানে আবহাওয়া স্বাভাবিকের চাইতে আদ্র, স্যাৎস্যাতে।
বা ভেজা।

 

৪. মধু সংরক্ষনের জন্য এমন জায়গা ঠিক করুন যা একই সাথে শুকনো এবং নাতিষীতোষ্ণ:

মধু ৫০ থেকে ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (১০ এবং ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এর মধ্যে সবচেয়ে ভাল সংরক্ষণ করা হয়। তাপমাত্রায় পরিবর্তনের কারণে মধু রং এবং স্বাদ হারাতে পারে। মধু সংরক্ষণের জন্য এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে তাপমাত্রায় পরিবর্তন খুব বেশী ওঠানামা করে না। সরাসরি আলো এবং বাতাসের স্পর্শ আসে না এমন ছায়াযুক্ত আবদ্ধ জায়গাই মধু সংরক্ষনের জন্য আদর্শ। কারন মধুতে থাকা এসেনশিয়াল অয়েলগুলো সহজেই বাষ্পীভূত হয়। মধু বাহির থেকে গন্ধও শোষন করে। এতে মধুর স্বাদ এবং গন্ধ হারিয়ে যায়। রুম টেম্পারেচার অর্থাৎ ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ই মধু সংরক্ষণের জন্য আদর্শ।

 

মধুর পাত্র বাসার যে কোন একটি ঠাণ্ডা শুকনো স্থানে রেখে দিলেই হবে। অনেকে রান্নাঘরে মধু সংরক্ষণ করেন। এটি মধু সংরক্ষণের সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা, কারণ আপনার যখন এটি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে তখন এটি হাতে থাকবে। তবে এটি আপনার রান্নাঘরের উষ্ণ অংশ থেকে দূরে রাখুন। অতিরিক্ত উত্তাপ মধুর ক্ষতি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চুলার কাছাকাছি মধু রাখবেন না।

 

অত্যাধিক তাপমাত্রা যেমন : ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক তাপমাত্রায় মধুর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়, রঙ পাল্টে যায়, উপকারী গুণাগুণ কমে যায়।

 সুন্দরবরের মধু ছাড়া অন্যান্য মধু ফ্রিজারেটরে তাড়াতাড়ি জমে যেতে পারে। শূন্যর কাছাকাছি তাপমাত্রায় মধুর অনেক অ্যামাইনো এসিড বা ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। তাই মধু রেফ্রিজারেটরে রাখা অনুচিত।

 

যথাযথ ভাবে সংরক্ষন করা গেলে মধু এমনকী হাজার বছর ধরেও ভালো থাকে।

সত্যি বলতে খাঁটি মধু কখনোই নষ্ট হয় না। মধুর রাসায়নিক বিন্যাসটিই এমন যে, এতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না। অবাক করার মতো বিষয় হলো, মিসরের পিরামিড আবিষ্কারের সময় মমির সঙ্গে বয়ামভর্তি মধু খুঁজে পান প্রত্মতাত্ত্বিকরা, যথাযথ ভাবে সংরক্ষনের কারনে যা তখনোও টাটকা ছিলো। সেগুলো ছিল দুই থেকে তিন হাজার বছরের পুরনো।

 

জর্জিয়াতে পাওয়া গেছে তারচেয়েও পুরাতন মধু। সিরামিকের এক জারে থাকা সে মধু ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের পুরনো।

মধুতে থাকা চিনি, কম আর্দ্রতা, উচ্চমাত্রার অম্ল, গ্লুকোনিক এসিড এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইড একে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

তারমানে এই না যে আপনি সাধারন ঘরোয়া ব্যবহার্য মধুও এতোদিন সংরক্ষন করতে পারবেন। পারবেন, যদি সেই মধু বারবার খোলা এবং বন্ধ করা না হয়। সাধারন ব্যাবহার্য মধু যথাযথবাবে ব্যাবহার করতে পারলে সারাবছরও ব্যাবহার করা সম্ভব। মধু বিক্রেতাগন বিক্রয়ের জন্য মধু অনায়াসে এক বছরের অধিক কাল যাবৎ সংরক্ষন করে থাকেন।

কিছু মধু পুরাতন হয়ে গেলে অনেক সময় জমে হয়ে স্ফটিকায়িত হয়। পুরনো হওয়ার সাথে সাথে মধু কালচে হয়ে যায়, গন্ধ পরিবর্তন হয়। এটা সেসব মধুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট।

আরেকটি বিষয় হলো মধুর ওঠানোর চামচে যেন কোনো পানি না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখাও জরুরি। পানি গেলে নষ্ট হয়ে যাবে মধু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আশ শেফা মধুঘর

FREE
VIEW