মধুর গুনাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ এবং ঔষধিগুণাবলীর জন্য প্রসিদ্ধ। সুন্দরবনের বেশীরভাগ মধু খলসে ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের বাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে। মধুর অন্য একটি গুণ হল এটি কখনো নষ্ট হয় না৷ হাজার বছরেও মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয় না। মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ নামক দুই ধরনের সুগার থাকে। অবশ্য সুক্রোজ ও মালটোজও খুব অল্প পরিমাণে আছে। মধু নির্ভেজাল খাদ্য। এর শর্করার ঘনত্ব এত বেশি যে, এর মধ্যে কোনো জীবাণু ১ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচতে পারে না। এতে ভিটামিন এ, বি, সি প্রচুর পরিমাণ বিদ্যমান। অনেক প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানও আছে। যেমন- এনজাইম বা উৎসেচক, খনিজ পদার্থ (যথা পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ), এছাড়াও প্রোটিন আছে। খাদ্য ও ঋতুর বিভিন্নতার কারণে মধুর রঙ বিভিন্ন হয়ে থাকে। এ কারণেই কোন বিশেষ অঞ্চলে কোন বিশেষ ফল-ফুলের প্রাচুর্য থাকলে সেই এলাকার মধুতে তার প্রভাব ও স্বাদ অবশ্যই পরিলক্ষিত হয়। মধু সাধারণত তরল আকারে থাকে তাই একে পানীয় বলা হয়। মধু যেমন বলকারক খাদ্য এবং রসনার জন্য আনন্দ ও তৃপ্তিদায়ক, তেমনি রোগ ব্যাধির জন্যও ফলদায়ক ব্যবস্থাপত্র।

মধুর আরো একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, নিজেও নষ্ট হয় না এবং অন্যান্য বস্তুকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত নষ্ট হতে দেয় না। এ কারণেই হাজারো বছর ধরে চিকিৎসকরা একে অ্যালকোহল (Alcohol)- এর স্থলে ব্যবহার করে আসছেন। মধু বিরেচক এবং পেট থেকে দূষিত পদার্থ অপসারক। মধু লিভার, পাকস্থলী, লোমকুপের গোড়া ও মূত্রথলি পরিস্কার করে, হৃদপিন্ড ও কিডনীর রক্ত পরিশোধনে বিশেষ ভুমিকা রেখে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ অপসারনে বিশেষভাবে সহায়তা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। নিয়মিত সেবনে মধু দৃষ্টি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে, জিহ্বার জড়তা দূর করে এবং অটুট যৌবন ধরে রাখে। মধু হৃদপিন্ডকে সতেজ রাখে ও মনে প্রশান্তি দান করে। ফুল-ফল ও ঋতুর বিভিন্নতার জন্য মধুর ঘনত্ব ও গুণাগুণও বিভিন্ন রকমের হয়। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ। আরো থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি। মধুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা আমাদের শুধুমাত্র দেহের বাহ্যিক দিকের জন্যই নয়, দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায়ও কাজ করে।

আল কুরআনে মধুর বর্ণনা

আরবি পরিভাষায় মধুপোকা বা মৌমাছিকে ‘নাহল’(نحل) বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এই নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা বিদ্যমান আছে। সূরা নাহল এর আয়াত ৬৯-এ আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনঃ “তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার”

মধু হচ্ছে  ওষুধ এবং খাদ্য উভয়ই। মধুকে বলা হয়- বিররে এলাহি ও তিব্বে নব্বী। অর্থাৎ খোদায়ী চিকিৎসা ও নবী করীম (সা.)- এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত। সূরা মুহাম্মদ- এর ১৫ আয়াতে আল্লাহ তায়ালার এরশাদ হচ্ছেঃ “জান্নাতে স্বচ্ছ মধুর নহর প্রবাহিত হবে।”মধুকে আল্লাহ তায়ালা “শেফা” বা নিরাময় বলেছেন।

আল হাদীসে মধুর বর্ণনা

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে হুজুর পাক (সা.) বলেছেনঃ তোমরা দুটি শেফা দানকারী বস্তুকে নিজেদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নাও। একটি মধু অপরটি কুরআন। -(মিশকাত)।মধু হলো ৯৯ প্রকার রোগের প্রতিষেধক। কারণ, মধু রোগব্যাধি শেফা দানে এক অব্যর্থ মহৌষধ। আর  কোরআন দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার গ্যারান্টি। এ দুটির দ্বারা বহু শতাব্দী ধরে মানুষ অশেষ উপকৃত হয়ে আসছে। আমাদের প্রিয় নবী হুজুর পাক (সা.) মধু খেতে বড়ই ভালো বাসতেন।

রাসুল (সাঃ) মধুকে অভিহিত করেছেন “খাইরুদ্দাওয়া” বা মহৌষধ হিসেবে। তিনি আরোও বলেছেনঃ “ কোরআন হলো যে কোন আত্মিক রোগের প্রতিকার এবং মধু হলো যে কোন দৈহিক রোগের প্রতিকার” -(ইবনে মাজাহ)।

বুখারী শরীফের বর্ননা মতে রাসূল (সাঃ) মধু এবং হালুয়া ভালোবাসতেন। সাহাবায়ে কেরাম-এর অনেকেই সর্বরোগে মধু ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন।পবিত্র হাদিস শরিফে মধু সম্পর্কে প্রচুর রেওয়ায়াতে আছে।

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)- এর মতে সকল পানীয় উপাদানের মধ্যে মধু সর্বোৎকৃষ্ঠ। তিনি বলেনঃ “মধু এবং কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের চিকিৎসা নেয়া উচিত।” -(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাকেম, ইবনে মাজাহ)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন যে, “রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন দিন ভোরের মধু চেটে খায় তার কোন বড় বিপদ হতে পারে না।” -(ইবনে মাজাহ, বয়হাকী, ইবনে মাজাহ) ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং সকাল বেলা খালি পেটে মধুর শরবত পান করতেন। যারা নিয়মিতভাবে মধুর শরবত পান করতে না পারবে তাদের জন্য তিনি বলেনঃ “যে ব্যক্তি মাসে তিন দিন সকাল বেলা মধু চেটে সেবন করবে, ওই মাসে তার কোন কঠিন রোগব্যাধি হবে না।”

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরোও বলেছেনঃ “যে কেহ আরোগ্য কামনা করে, তার ভোরের নাশতা হিসাবে পানি মিশ্রিত মধু পান করা উচিত”

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেনঃ “আল্লাহর শপথ যে ঘরে মধু আছে অবশ্যই ফেরেস্তারা সে ঘরের অধিবাসীদের মাগফেরাত কামনা করেন।

কোন ব্যক্তি যদি মধুপান করে তবে যেন তার পেটে লক্ষ ওষুধ স্থির হলো এবং পেট হতে লাখ রোগ বের হয়ে গেল। আর যদি সে পেটে মধু ধারণ অবস্থায় মারা যায় তবে তাকে দোজখের আগুন স্পর্শ করে না” – (নেয়ামুল কোরআন)।

রাসুল (সাঃ) সকাল বেলা খালি পেটে মধুর শরবত পান করতেন। কেউ যদি নিয়মিত ভাবে তা পান করতে না পারেন, তাদের জন্য কমপক্ষে মাসে তিন দিন সকাল বেলা মধু চেটে খেতে বলেছেন, তাহলে ঐ মাসে তার কোন কঠিন রোগ হবে না বলে বলেছেন। ( ইবনে মাজাহ)

সুস্থ অসুস্থ যে কেউ মধু খেতে পারেন। সুস্থ মানুষ দিনে দু’চা-চামচ মধু অনায়াসে খেতে পারেন। বেশি খেতে চাইলে শর্করা জাতীয় খাদ্য ভাত, রুটি, আলু কমিয়ে খেতে হবে। অন্যথা মুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণ খেলে মোটা হওয়ার ভয় নেই। হজমের গোলমাল, হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস প্রভৃতিরোগে আধা চা-চামচ এর বেশি মধু না খাওয়াই ভালো। রোগ নিরাময়ের জন্য মধু কখনো এককভাবে, আবার কখনো ভেষজ দ্রব্যের সঙ্গে মিশ্রিত করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, মধু হৃদপিন্ড কে সতেজ করে। প্রতিদিন হাতের তালুতে অল্প পরিমাণ মধু নিয়ে চেটে খেলে হৃদরোগ থাকে না।জার্মান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. ই কচ বলেছেনঃ ‘উপযুক্ত ঘাস খেয়ে ঘোড়া যেমন তেজী হয় তেমনি নিয়মিত সকালে এক চা-চামচ করে খাঁটি মধু খেলে হৃদপিন্ড শক্তিশালী হয়।

  1. চায়ের সঙ্গে মধু ও আদার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও শ্লেষ্মা রেগের উপশম হয় (১ চামচ মধু + ১ চামচ আদার রস)।
  2. দুই চা চামচের সমপরিমাণ মধু ও বাসকপাতার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যায়।
  3. তুলসী পাতার এক চা চামচ রস ও সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাশি দূর হয়।
  4. সৈন্ধব লবণ, আমলকী, পিপুল, মরিচ ইত্যাদির সঙ্গে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে এক চা চামচ করে খেলে কফ ও স্বরভাঙ্গা ভালো হয়।
  5. খাঁটি মধুর সঙ্গে হরীতকী ও বচচূর্ণ মিশিয়ে লেহন করলে (চেটে খেলে) শ্বাসকষ্টের আশু উপকার পাওয়া যায়।
  6. ২ চা চামচ মধু ১ গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে সকালে ও সন্ধ্যায় খেলে সর্দিকাশি দূর হয়।
  7. হালকা গরম জলসহ মধু মিশিয়ে গড়গড়া করলে গায়কদের গলার স্বর-শক্তি বৃদ্ধি পায়। অনেকের মতে, এটা টনিকের মতো কাজ করে।
  8. এক চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধেবেলা খেলে সর্দি সেরে যায় ও খিদে বৃদ্ধিপায়।

রক্ত মিশ্রিত পায়খানা, তৈলাক্ত পায়খানা এবং সঙ্গে পেট কামড়ানো থাকলে তাকে আমাশয় বলে।কচি বেল ও আমগাছের কচি চামড়া (বাকল) বাটার সঙ্গে গুড় ও মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যায়।কুল বা বড়ই গাছের ছাল চূর্ণের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়।

৫০০ গ্রাম আতপ চাল ভেজে গুঁড়া করে এর সঙ্গে ১২৫ গ্রাম ঘি, ২৫০ গ্রাম খাটি মধু, ১২৫ গ্রাম চিনি এবং ২০টি সবরি কলা ভালোভাবে মিশিয়ে (চটকে) জ্বাল দিয়ে খাবার উপযোগী করে ৩/৪ দিন নিয়মিত খেলে সব ধরনের আমাশয় ভালো হয়ে যায়।

যক্ষ্মা রোগে বাসক পাতার রস এক চা-চামচ পরিমাণ এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ আদার রস মিশিয়ে কিছু দিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে। যক্ষ্মা রোগ ভালো হওয়ার জন্য- আধাতোলা পেঁয়াজের রস, ২৫০ গ্রাম ঘি এবং ২৫০ গ্রাম মধু মিশিয়ে একটা পাত্রে রেখে দিয়ে প্রতিদিন সকাল বিকাল খেলে এবং প্রতি রাতে শোয়ার সময় চিনি দিয়ে অল্প পরিমাণ গরম দুধ খেলে ৪/৫ দিনের মধ্যে যক্ষ্মা ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ।

পাতলা পায়খানা থাকলে গরম পানিতে আড়াই চা-চামচ মধু মিলিয়ে শরবত বানিয়ে বারবার সেবন করতে হবে।

ডায়রিয়া হলে খয়ের ও দারুচিনির গুঁড়া সমপরিমাণ সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। পিপুল ও গোল মরিচের শুকনো গুঁড়ার সঙ্গে মধু মিশিয়ে কিছু দিন নিয়মিত খেলে পুরাতন উদরাময় ভালো হয়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে এক গ্লাস গরম দুধ বা গরম পানিতে ২চা-চামচ মধু মিশিয়ে কয়েকবার খেতে হবে।

১. হৃদরোগীদের জন্য ২ চা চামুচ মধু তিন বেলা আহারের সাথে বা বেদানার রসের সাথে অথবা মধুর এক গ্লাস গরম শরবত ঘুমানোর সময় নিয়মিত সেব্য।

২. গ্যাষ্ট্রিক আলসারের ক্ষেত্রে ১ বা ২ চা-চামুচ মধু তিন বেলা আহারের আধা ঘন্টা আগে ও ভুলে গেলে চার ঘন্টা পরে নিয়মিত সেব্য।

৩. রক্তশুন্যতা, অনিদ্রা, মানষিক অস্থিরতা, অম্লতা, শারীরিক দুর্বলতা ও বদ হজমের ক্ষেত্রে বড় এক চামচ মধু এক গ্লাস তাজা গরম দুধের সাথে খাঁটি গাওয়া ঘি বা মাখন মিশ্রিত ২/১ টা টোস্ট বিস্কুট বা বাকরখানির সাথে সকাল-সন্ধ্যা সেব্য। ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়ার আগে ও পরে ২০ গ্রাম মধু দৈনিক সেব্য। চল্লিশোর্ধ্বে বয়েসে কাঠ বাদামের সাথে মধু নিয়মিত সেব্য।

৪. ডায়বেটিসের ক্ষেত্রে খাদ্য নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি দৈনিক ৪ চামচ করে তিন বেলা মোট ২০ গ্রাম মধু সকাল-সন্ধ্যা সেব্য। জন্ডিসের ক্ষেত্রে যাইতুনের তেল বা লেবুর শরবতের সাথে সেব্য।

৫. নিম্ন রক্তচাপের ক্ষেত্রে দৈনিক ৩০ গ্রাম করে এবং উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে (লবনাক্ত খাদ্য পরিত্যাজ্য) ৬০ গ্রাম মধু তিন বেলা আহারের সাথে সেব্য।

৬. আমাশয় ও পাতলা পায়খানার ক্ষেত্রে ১/২ চা-চামচ এবং কোষ্ঠ-কাঠিন্যের বেলায় ১/২ চা-চামচ করে মধুর গরম শরবতের সাথে সেব্য।

৭. শিশুদের দৈহিক গঠন, রুচি বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও পেট ভালো রাখার জন্য প্রত্যহ এক চামচ মধু নাস্তা বা গরম দুধের সাথে অথবা রাতে দুধ বা গরম পানির সাথে সেব্য।

৮. সর্দি কফ ও কামির বেলায় ২ চামচ মধু ১ টি লেবুর রস বা ১ চামচ আদার রস বা এক গ্লাস গরম দুধ বা এক কাপ রং চা বা ২/৩ টি আখরোটের সাথে সেব্য।

৯. যাবতীয় কাটা, ফোঁড়া ও জখমে মধুর প্রলেপ এবং চক্ষুরোগে এক ফোঁটা করে দিনে তিনবার লাগাতে হবে।

১০. যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে মধু বিজ্ঞানী ডাঃ আব্দুল করিম নজীব আল খতীব ও ডাঃ মোঃ নযর আদ দেকারের মতে দৈনিক অর্ধ কেজী মধুই যথেস্ট। নিয়মিত মালিশও ফলদায়ক।

১১. অনিয়মিত স্রাবের ক্ষেত্রে বড় এক চামচ মধুর শরবত দিনে দুইবার, গর্ভবতীর অতিরিক্ত বমির ক্ষেত্রে বার বার মধুর শরবত বিশেষ ফলদায়ক। গর্ভকালীন পাইলস না হওয়া, সন্তান সুস্থ সবল হওয়া ও স্বাভাবিক প্রসবের জন্য তৃতীয় মাস থেকে নিয়মিত রাতে ২ চা-চামুচ মধু, ১ চা চামচ যাইতুনের তেল ও এক চামচ মধু ও কাঠ বাদামের তেলের সাথে সেব্য।

১২. চুল পড়া বন্ধ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য মাসে একবার ২ চা-চামচ যাইতুনের তেল ও ৪ চামচ মধুর সাথে ভালো করে মিমিয়ে নিয়ে উষ্ণ স্থানে রেখে মাথায় ব্যাবহারের পর রোদে বা হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে চুল শুকিয়ে নিন ও আধা ঘন্টা পর শ্যাম্পু করুন।

১৩. মুখমন্ডল ও হাতের ত্বক নরম, মসৃণ ও উজ্জল রাখার জন্য এক চা চামচ মধু, বড় এক চামচ গরুর খাঁটি দুধ ও একটি ডিমের সাদা অংশ একত্রে ভালো করে মিশিয়ে লাগান। ৪৫ মিনিট পর গরম পানিতে তুলা ভিজিয়ে মুছে নিন এবং কয়েক মিনিট পর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

১৪. গর্ভধারন পরবর্তী সময়ে মায়েরা অনাকাঙ্খিত শারিরীক ওজন বৃদ্ধি প্রাতিহত করতে স্বাভাবিক ডায়েটের পাশাপাশি ভোরে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর পুর্বে এক চামচ মধুর সাথে দু চামচ কাগজী লেবুর রস এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে নিয়মিত পান করুন, এবং আনুষঙ্গিক দুর্বলতা কাটাতে এক গ্লাস দুধের সাথে দু চামচ মধু্ই যথেস্ট।

১৫. শরীরের বাইরের কোন অংশের ক্ষততে মধুর প্রলেপ লাগালে অনেক সময় মলমের চেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

১৬. পানিতে অল্প মধু মিশিয়ে খেলে পাকস্থলীর ক্ষত সারে।

১৭. মৌরির পানিতে মধু মিশিয়ে পান করলে দূষিত বায়ুপেট থেকে বেরিয়ে যায়।

১৮. যারা খুব মোটা হচ্ছেন তাদের মেদ কমানোর জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে খেলে সুফল পাওয়া যায়।

১৯. এক কাপ দুধে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রোজ সকালে খেলে শক্তি বৃদ্ধি পায়।

২০. মধুর সঙ্গে গুড়ের রস মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।

২১. চক্ষু রোগে এক ফোঁটা করে মধু দিনে ৩ বার চোখে লাগাতে হবে।

২২. শিশুদের দৈহিক গড়ন, রুচি বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও পেট ভালো রাখার জন্য প্রত্যহ এক চা চামচ মধু গরম দুধ ও গরম পানির সঙ্গে নাশতা ও রাতের খাবারের সঙ্গে দিতে হবে। দুর্বল শিশুকে এক ফোঁটা মধু দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুবার খাওয়ালে তার স্বাস্থ্য ভালো হয় ও শক্তি লাভ করে।

পানি, দূষিত বায়ু ও অতিরিক্ত গরমে মধু নষ্ট হয়ে যায়। ধাতব কিংবা প্লাষ্টিকের দ্রব্যে এবং বিশেষ করে ফ্রীজে মধু রাখলে মধুর স্বাভাবিক গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়, সেজন্য ধাতব দ্রব্যে এবং ফ্রীজে মধু রাখা নিষেধ, বিশেষ প্রয়োজনে প্লাষ্টিকের দ্রব্যে মধু বহন এবং সাময়িক সময়ের জন্য রাখা যেতে পারে তবে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষনের ক্ষেত্রে মধুর স্বাভাবিক গুনাগুন অক্ষুণ্ণ রাখতে চাইলে সিরামিক বা কাঁচের পাত্রই সর্বোত্তম। সেজন্য ‘আশ্-শেফা মধু’ সর্বদাই কাঁচের পাত্রে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।